বিশ্বকাপ শেষ রোনাল্ডোর, পর্তুগালকে একমাত্র গোলে হারিয়ে কোয়য়ার্টার ফাইনালে স্পেন
ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর বিশ্বকাপ অভিযান শেষ। শুধু এবারের বিশ্বকাপ নয়, কেরিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলে ফেললেন পর্তুগিজ মহাতারকা। পর্তুগালকে একমাত্র গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে চলে গেল স্পেন।

গৌতম রায়
ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর বিশ্বকাপ অভিযান শেষ। শুধু এবারের বিশ্বকাপ নয়, কেরিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলে ফেললেন পর্তুগিজ মহাতারকা। পর্তুগালকে একমাত্র গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে চলে গেল স্পেন।
ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ে যেতে চলেছে তখনই গোল করে পর্তুগালকে ছিটকে দিলেন মেরিনা। ছিটকে দিলেন রোনাল্ডোকেও। আগের দিনই বিশ্বকাপে কেরিয়ারের শেষ ম্যাচ খেলেছিলেন নেইমার। পরের দিনই শেষ করলেন রোনাল্ডোও। পরপর দু দিনে দুই মহাতারকার বিদায়।
ম্যাচ কেমন হল? স্পেন ৪-১-২-৩ ছকে দল সাজিয়ে বলের নিয়ন্ত্রণ রেখে হাই প্রেসিং ফুটবল খেলতে থাকে। লক্ষ্য ছিল যাতে পর্তুগাল খেলা তৈরি করতে না পারে। এ জন্য ফুয়ন্তের দলে রড্রি ছিলেন অ্যাঙ্করের দায়িত্বে। দুই উইংয়ে সচল ছিলেন ইয়ামল ও বায়েনা।
অন্যদিকে পর্তুগাল দল নামিয়েছিল ৪-২-৩-১ ছকে। রবার্তো মার্টিনেজের অপেক্ষাকৃত রক্ষণাত্মক ফর্মেশন। ডিফেন্সে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন রুবেন দিয়াজ। ডাবল পিভোটিং রোলে ছিলেন জোয়াও নেভেস ও ভিটিনহা। তাঁরা চেষ্টা করে গিয়েছেন যাতে স্পেনের অ্যাটাকারদের পাস খেলার জায়গাটা ছোট করে দেওয়া যায়। এবং প্রতি আক্রমণের সময় স্পেনের হাই ব্যাক লাইনের পিছনের জায়গাটা কাজে লাগাতে। নুনো গোমস ও ক্যানসেলা যেমন দুই প্রান্ত ধরে দ্রুত প্রতিআক্রমণে গেছেন, তেমনি রোনাল্ডো চেষ্টা করে গেছেন তাঁর দিকে দুজন ডিফেন্ডারকে টেনে এনে সতীর্থদের জন্য ফাঁকা জায়গা করে দিতে।
শুরুর দিকে বেশ কয়েকবার গোলের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল স্পেন। সহজতম সুযোগটি মিস করেন ফর্মে থাকা ওয়েরজাবাল। ওলমোর থ্রু ধরে বাইরে মেরে বড় ম্যাচে বড় মিস করেন তিনি। ১২ মিনিটে পরপর ইয়ামল ও বায়েনার শট রুখে দিয়ে ডাবল সেভ করেন পর্তুগিজ গোলরক্ষক দিয়েগো কোস্তা।
এর মধ্যে দু তিনবার গোলের কাছে চলে এসেছিল পর্তুগালও। একবার রোনাল্ডো দূরুহ কোন থেকে গোলরক্ষক উনায় সিমনের হাতে মারেন। ৩৬ মিনিটে ব্রনো ফার্নান্ডেজের ক্রস গোললাইন থেকে হাড করে পিছনে রাখেন জোয়াও ফেলিক্স। ৬ গজের কোন থেকে রোনাল্ডো পায়ের পাতা দিয়ে বলকে গোলে রাখার চেষ্টা করেন। কিন্তু ঝাঁপিয়ে ধরে নেন সিমন। যদি সিআরসেভেন আর একটু পাওয়ার দিতে পারতেন, তাহলে হয়ত বলটি ধরার সুযোগ পেতেন না সিমন বিরতির ঠিক আগে নুনো মেন্ডিজের শট ডিফ্লেক্টেড হয়ে বারে আছড়ে পড়ল।
দ্বিতীয়ার্ধেও প্রাধান্য ছিল স্পেনেরই। তবে জয়সূচক গোলটি এল একেবারে ইনজুরি টাইমে। বক্সে ঢুকে দিয়েগো কোস্তার ডানদিক দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন মেরিনো।
এই পর্তুগাল দলে হয়ত ব্যক্তিগত দক্ষতা একটু বেশি, তবে দলগতভাবে অনেকটাই এগিয়ে স্পেন। সেই টিম গেমেই বাজিমাত করে চলে গেল স্প্যানিশ আর্মাডা। গুডবাই ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো!








