প্রথমার্ধে দুরন্ত লড়াই, তবু হার গতি, শক্তি আর পাওয়ারের কাছে, উরুগুয়ে জিতল ৬-১ গোলে
ফুটবল আমাদের ছিলই। তার সঙ্গে যেটা ছিল, সেটা ভয়। ভয় কেটে গেছে। ব্রাজিল ম্যাচের মতোই দু’বারের বিশ্বজয়ী উরুগুয়ের ম্যাচেও ভারতের খেলাকে স্কোরবোর্ড দেখে বিচার করবেন না। ভারত ছেড়ে দে মা, কেঁদে বাঁচি—এক মিনিটের জন্যও ছিল না। প্রচণ্ড বজ্রপাতের জন্য ২৬ মিনিটে খেলা স্থগিত হল। তার আগে পর্যন্ত খালিদ জামিলের প্ল্যানিং ছিল দেখার মতো।

এক্সট্রাটাইম ওয়েব ডেস্ক
উরুগুয়ের কাছে ৬-১ গোলে হার ভারতের, তবে প্রথামার্ধে দুরন্ত লড়াই করলেন রায়ান-মনবীররা। সেটাই প্রাপ্তি। বিশ্বের ২০ নম্বর দলকে শেষ পর্যন্ত ধরে রাখা সম্বব ছিল না।
ফুটবল আমাদের ছিলই। তার সঙ্গে যেটা ছিল, সেটা ভয়। ভয় কেটে গেছে। ব্রাজিল ম্যাচের মতোই দু’বারের বিশ্বজয়ী উরুগুয়ের ম্যাচেও ভারতের খেলাকে স্কোরবোর্ড দেখে বিচার করবেন না। ভারত ছেড়ে দে মা, কেঁদে বাঁচি—এক মিনিটের জন্যও ছিল না। প্রচণ্ড বজ্রপাতের জন্য ২৬ মিনিটে খেলা স্থগিত হল। তার আগে পর্যন্ত খালিদ জামিলের প্ল্যানিং ছিল দেখার মতো।
কিন্তু খালিদের ছেলেরা বুঝলেন খেলাটা ৪৫ মিনিটের নয়, ৯০ মিনিটের। আসলে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে, লড়াইয়ের মানসিক শক্তি বেড়েছে, কিন্তু গতি, শক্তি ও ফিটনেসে ভারত কতটা পিছিয়ে আছে, সেটাই বুঝিয়ে দিয়ে গেল উরুগুয়ে। তবে একটা কথা ঠিক, ভারত যখন প্রাধান্য নিয়ে খেলে চলেছে, তখনই খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়াটাও ভারতের ছন্দ নষ্ট করে দিয়ে গেল।
উরুগুয়ে প্রথম থেকেই ডিফেন্স লাইন হাই রেখেছিল। তার সুযোগে বারবার লাইন-ব্রেকিং খেলছিল ভারত। মনবীর, রায়ান, অনিরুদ্ধ থাপা, আশিক কুরুনিয়ানরা উরুগুয়ের নো ম্যানস ল্যান্ড ঠিক খুঁজে নিচ্ছিল।
তখন উরুগুয়ে রক্ষণের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছিল, এ কারণেই হয়ত তারা পরপর দুটি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে। গত বিশ্বকাপে গ্রুপের তিনটি ম্যাচ খেলে দুটিতে ড্র ও একটিতে কেন হেরেছিল, সেই মুহূর্তে সেটাই যেন মনে হচ্ছিল বারবার।
এর মধ্যে পরমবীর ভুল ট্যাকেলে পেনাল্টি দিলেন, এগিয়ে গেল উরুগুয়ে। গোল নুনেজের। ৮ মিনিট ম্যাচের বয়স। উরুগুয়ের গোলকিপার থিয়াগোকে এক পেয়েও ব্যর্থ এডমুণ্ড। এর মধ্যে সম্মিলিত আক্রমণে কাঁপল উরুগুয়ের জাল, গোল করলেন অনিরুদ্ধ থাপা।
প্রথমার্ধের আগে ফলাফল ২-১ উরুগুয়ের পক্ষে। উরুগুয়ের পক্ষে গোল আরাউহোর।
দ্বিতীয়ার্ধে খুবই টেকনিক্যাল খেলল দিয়েগো ফোরলানের দল। ভারতের ব্যাক ফাইভকে তুলে আনতে খেলাটাকে নিজেদের অর্ধেই রাখতে চাইল। এই ফাঁদে পা দিল ভারত। দুটো গোলই ডিফেন্সের ফাঁকের জন্যই। জালাজারা আর আরাউহোর গোল সেই কারণেই।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণাত্মক ভারত। সানার আগুনে শট গোলকিপার তৎপরতার সঙ্গে বাঁচালেন। কিন্তু আক্রমণাত্মক ভারত দ্রুত ডিফেন্সিভ শেপে ফিরতে ব্যর্থ হল বারবার। সেই সুযোগে নামার পর গোল করলেন সানাব্রিয়া।
প্রশ্ন হল, উরুগুয়ের বিরুদ্ধে কি পূর্ণ সময়ে ডিফেন্স লাইন অর্গানাইজড রাখা গেল না?
এরপর শুরু হল উরুগুয়ের পাওয়ার ফিজিক্যাল প্রেসিং। লাতিন আমেরিকার বিখ্যাত প্রেসিং। বারবার খুলে যাচ্ছিল ভারতের দরজা। দূর থেকে দুর্দান্ত গোল করে গেলেন অ্যাগুইরি। ৬ গোল খেতে হল ঠিকই কিন্তু প্রাপ্তিগুলোকে নিয়েই এগোতে হবে।








