চিনে এমবাপে-বিতর্ক তুঙ্গে: মাও মিম-কাণ্ডে একে একে সম্পর্ক ছিন্ন ব্র্যান্ডগুলির, ক্ষমা চাইলেন ফরাসি তারকা
মাঠের বাইরের বিতর্ক এবার আরও বড় সমস্যায় ফেলল কিলিয়ান এমবাপেকে। ফ্রান্সের একটি অনলাইন অনুষ্ঠানে ভাইরাল হওয়া একটি মিমকে ঘিরে বিতর্কের জেরে চিনে বাণিজ্যিকভাবে বড় ধাক্কা খেলেন রিয়াল মাদ্রিদের তারকা ফুটবলার।

এক্সট্রাটাইম ওয়েবডেস্ক: মাঠের বাইরের বিতর্ক এবার আরও বড় সমস্যায় ফেলল কিলিয়ান এমবাপেকে। ফ্রান্সের একটি অনলাইন অনুষ্ঠানে ভাইরাল হওয়া একটি মিমকে ঘিরে বিতর্কের জেরে চিনে বাণিজ্যিকভাবে বড় ধাক্কা খেলেন রিয়াল মাদ্রিদের তারকা ফুটবলার।
অক্টোবরের শেষ দিকে নতুন করে ছড়িয়ে পড়ে ফরাসি অনলাইন টক শো ‘দ্য ব্রিজ’-এর একটি পুরনো ভিডিয়ো। অনুষ্ঠানে এমবাপেকে তাঁর নিজের সবচেয়ে পছন্দের মিম সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। সেই সময় প্রাক্তন চিনা নেতা মাও জে দংয়ের শরীরে এমবাপের মুখ বসানো একটি সম্পাদিত ছবি নিয়ে তাঁকে হাসতে দেখা যায়। মিমটি নিয়ে কথা বলার সময় মাওকে ‘চিনা একনায়ক’ বলেও উল্লেখ করেন এমবাপে। পাশাপাশি জানান, বন্ধুদের সঙ্গে অনলাইনে এই ধরনের মিম নিয়ে তাঁরা মজা করেন।
ভিডিয়োটি দ্রুত চিনের সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। চিনে মাও জে দংকে ঘিরে বিভিন্ন বিষয় অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় বিতর্কও দ্রুত তীব্র হয়। যদিও ভিডিয়োটির সত্যতা রয়টার্স স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি এবং শুরুতে এমবাপের প্রতিনিধিদের কাছ থেকেও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এরপর বিতর্ক সামাজিক মাধ্যম ছাড়িয়ে সরাসরি বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে পৌঁছে যায়। চিনের পানীয় প্রস্তুতকারী সংস্থা দংপেং, দুগ্ধজাত পণ্য প্রস্তুতকারী মেংনিউ এবং চিজ প্রস্তুতকারী সংস্থা সাংহাই মিল্কগ্রাউন্ড এমবাপের সঙ্গে তাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক অবিলম্বে ছিন্ন করার কথা জানায়। সংস্থাগুলির বক্তব্যে চিনা জনগণের অনুভূতি বা জাতীয় আবেগে আঘাত হানতে পারে এমন কথা বা কাজের বিরোধিতার কথা উল্লেখ করা হয়।
এর পাশাপাশি চিনা সংবাদমাধ্যমেও শুরু হয় প্রতিক্রিয়া। চিনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এমবাপে এবং লা লিগা-সংক্রান্ত সম্প্রচার বন্ধ করা হয়েছে বলে খবর সামনে আসে। বিজ্ঞাপন থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয় ফ্রান্সের অধিনায়ককে। চিনের সামাজিক মাধ্যম ওয়েইবোতে এমবাপেকে বয়কট এবং কালো তালিকাভুক্ত করার দাবিও জোরালো হয়ে ওঠে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত ক্ষমা চান এমবাপে। তিনি স্বীকার করেন, ওই ছবির বিষয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া ‘বিবেচনাহীন’ ছিল। তাঁর কথায়, নিজের মন্তব্যে চিন এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসকারী চিনা সম্প্রদায়ের মানুষের মনে আঘাত লেগেছে, তা তিনি বুঝতে পেরেছেন। যাঁরা তাঁর কথায় আহত হয়েছেন, তাঁদের কাছে ক্ষমা চেয়ে এমবাপে জানান, কাউকে আঘাত করা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না। একই সঙ্গে চিনের মানুষ এবং তাঁদের ইতিহাসের প্রতি ‘গভীর শ্রদ্ধা’র কথাও জানান তিনি।
একটি হালকা মেজাজের মিম নিয়ে আলোচনাই শেষ পর্যন্ত এমবাপের জন্য বড় বাণিজ্যিক সংকটে পরিণত হয়েছে। ঘটনাটি আরও একবার দেখিয়ে দিল, মাঠের বাইরের একটি ভাইরাল মুহূর্তও কীভাবে বিশ্বের অন্যতম বড় ফুটবল তারকার জন্য সুদূরপ্রসারী পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
