মাঠের বাইরেও নারীশক্তির উত্থান, ভারতীয় ফুটবলের প্রশাসনিক দায়িত্বে নতুন দিশা দেখাচ্ছেন সুদেষ্ণা ও ড্রেমা
ভারতীয় মহিলা ফুটবলের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা শুধু মাঠের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। খেলার পাশাপাশি প্রশাসন, ম্যাচ পরিচালনা, রেফারিং এবং নেতৃত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও ক্রমশ নিজেদের জায়গা করে নিচ্ছেন মহিলারা। ফুটবলের এই পরিবর্তিত ছবিতে তৈরি হচ্ছে নতুন সম্ভাবনা, খুলে যাচ্ছে মহিলাদের সামনে একাধিক পেশাগত পথ।

এক্সট্রাটাইম ওয়েবডেস্ক: ভারতীয় মহিলা ফুটবলের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা শুধু মাঠের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। খেলার পাশাপাশি প্রশাসন, ম্যাচ পরিচালনা, রেফারিং এবং নেতৃত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও ক্রমশ নিজেদের জায়গা করে নিচ্ছেন মহিলারা। ফুটবলের এই পরিবর্তিত ছবিতে তৈরি হচ্ছে নতুন সম্ভাবনা, খুলে যাচ্ছে মহিলাদের সামনে একাধিক পেশাগত পথ।
অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনের (AIFF) ম্যাচ কমিশনার এবং ইন্ডিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (IFA) সহকারী সচিব সুদেষ্ণা মুখোপাধ্যায়ের মতে, নিষ্ঠা, শেখার মানসিকতা এবং প্রতিটি অভিজ্ঞতা থেকে নিজেকে উন্নত করার ইচ্ছাই তাঁর পথচলার মূল শক্তি। তাঁর বিশ্বাস, কাজের ক্ষেত্রে ভুল হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু সেই ভুলকে বাধা হিসেবে না দেখে তা থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যাওয়াই একজন পেশাদারের সাফল্যের চাবিকাঠি।
সুদেষ্ণার মতে, ভারতীয় ফুটবলের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মহিলাদের উপস্থিতি এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি দৃশ্যমান। প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে শুরু করে ম্যাচ পরিচালনা, সব ক্ষেত্রেই মহিলারা নিজেদের দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন। কলকাতায় আয়োজিত এএফসি উইমেন্স চ্যাম্পিয়ন্স লিগও এই পরিবর্তনকে আরও সামনে নিয়ে আসার গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠেছে।
তাঁর মতে, এই ধরনের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা তরুণীদের সামনে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। ফুটবলার হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসক, রেফারি, ম্যাচ কমিশনার কিংবা টিম ম্যানেজার হিসেবেও যে কেরিয়ার গড়া সম্ভব, সেই বার্তাই পৌঁছে দিতে পারে এই ধরনের টুর্নামেন্ট।
অন্যদিকে, তাওয়াং জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম মহিলা সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়ে নজির গড়েছেন ড্রেমা চোইকি। তাঁর মতে, ফুটবলের প্রতিটি স্তরে মহিলাদের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
ড্রেমার বক্তব্য, শুধু সুযোগ তৈরি করলেই হবে না, সেই সুযোগকে কাজে লাগানোর জন্য প্রয়োজন বিশেষ প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেশন এবং প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে কাজ করার বাস্তব অভিজ্ঞতা। পাশাপাশি, নতুন প্রজন্মের মহিলাদের এগিয়ে নিয়ে যেতে অভিজ্ঞ প্রশাসক ও আধিকারিকদের পরামর্শ এবং মেন্টরশিপও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও মনে করেন, ফুটবলের প্রশাসনিক কাঠামোয় এমন একটি পেশাদার পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে মহিলারা সম্মান ও সহযোগিতা পাওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও সামলাতে পারবেন। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও তাঁদের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সুদেষ্ণা মুখোপাধ্যায় এবং ড্রেমা চোইকির মতো ব্যক্তিত্বদের পথচলা ভারতীয় ফুটবলের পরিবর্তিত মানসিকতারই প্রতিফলন। তাঁদের সাফল্য বুঝিয়ে দিচ্ছে, ফুটবলে মহিলাদের ভূমিকা আর শুধু মাঠের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নয়। প্রশাসন, পরিচালনা এবং নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রেও নিজেদের দক্ষতা ও নেতৃত্বের ছাপ রেখে ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ গড়তে এগিয়ে আসছেন তাঁরা।








