এশিয়ান গেমসের পর আহমেদাবাদে ব্রিকস, ক্রীড়ার মঞ্চে মিলবে ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি
জাপানে যখন পদকের লড়াইয়ে ব্যস্ত ভারতের ক্রীড়াবিদরা, তখন দেশের ক্রীড়া প্রশাসনের নজর ইতিমধ্যেই চলে গিয়েছে পরবর্তী আন্তর্জাতিক আয়োজনের দিকে। আহমেদাবাদে শুরু হয়েছে ব্রিকস ঐতিহ্যবাহী ও আদিবাসী ক্রীড়া প্রদর্শনী গেমসের প্রস্তুতি। আগামী ১২ ও ১৩ অক্টোবরের এই আয়োজন খেলাধুলাকে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি সংস্কৃতি ও দেশগুলির মধ্যে সেতুবন্ধনের মাধ্যম হিসেবেও তুলে ধরবে।

এক্সট্রাটাইম ওয়েবডেস্ক: জাপানে যখন পদকের লড়াইয়ে ব্যস্ত ভারতের ক্রীড়াবিদরা, তখন দেশের ক্রীড়া প্রশাসনের নজর ইতিমধ্যেই চলে গিয়েছে পরবর্তী আন্তর্জাতিক আয়োজনের দিকে। আহমেদাবাদে শুরু হয়েছে ব্রিকস ঐতিহ্যবাহী ও আদিবাসী ক্রীড়া প্রদর্শনী গেমসের প্রস্তুতি। আগামী ১২ ও ১৩ অক্টোবরের এই আয়োজন খেলাধুলাকে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি সংস্কৃতি ও দেশগুলির মধ্যে সেতুবন্ধনের মাধ্যম হিসেবেও তুলে ধরবে।
এশিয়ান গেমস চলাকালীনই এই আয়োজনের প্রস্তুতিকে গুরুত্ব দিচ্ছে কেন্দ্রীয় ক্রীড়া মন্ত্রক। ক্রীড়া সচিব হরি রঞ্জন রাওয়ের ২৮ সেপ্টেম্বর জাপানে যাওয়ার কথা থাকলেও তিনি পরিকল্পনা বদলে ভারতে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। আহমেদাবাদে ব্রিকসের অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি সরেজমিনে দেখভাল করাকেই এই মুহূর্তে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
এশিয়ান গেমসের সঙ্গে আহমেদাবাদের এই আয়োজনের মূল পার্থক্য তার উদ্দেশ্যেই। এখানে মূল লক্ষ্য পদক জয় নয়। বরং বিভিন্ন দেশের ঐতিহ্যবাহী ও আদিবাসী খেলাধুলাকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরা এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলির মধ্যে সাংস্কৃতিক আদানপ্রদান ও মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা।
প্রায় ২,০০০ ক্রীড়াবিদ, কর্মকর্তা এবং অন্যান্য অংশগ্রহণকারী এই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। চিন, রাশিয়া ও ইরান-সহ ব্রিকসের একাধিক দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। ফলে একই মঞ্চে উঠে আসবে বিভিন্ন দেশের নিজস্ব ক্রীড়া ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি।
ভারতের জন্য এই আয়োজনের গুরুত্ব শুধু একটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া অনুষ্ঠান আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার মাধ্যমে দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য তুলে ধরার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সম্পর্কও আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হবে।
এশিয়ান গেমস যেখানে উচ্চমানের ক্রীড়া, পারফরম্যান্স এবং পদকের লড়াইয়ের মঞ্চ, সেখানে আহমেদাবাদের ব্রিকস আয়োজনের কেন্দ্রে থাকবে ক্রীড়া, সংস্কৃতি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা।
এর পাশাপাশি, ভারতের বৃহত্তর ক্রীড়া-আয়োজনের পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও এই অনুষ্ঠান তাৎপর্যপূর্ণ। ২০৩০ সালের কমনওয়েলথ গেমস আহমেদাবাদে আয়োজন করতে চলেছে ভারত। একই সঙ্গে ২০৩৬ সালের অলিম্পিক গেমস আয়োজনেরও উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে দেশ। সেই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজন পরিচালনার সক্ষমতা তুলে ধরার আরও একটি সুযোগ এনে দিচ্ছে ব্রিকসের এই অনুষ্ঠান।
২০২৬ সালে ব্রিকসের সভাপতিত্ব করছে ভারত। ফলে আহমেদাবাদের এই আয়োজন ক্রীড়ার পাশাপাশি ভারতের ক্রীড়া-কূটনীতিতেও নতুন মাত্রা যোগ করতে চলেছে। ঐতিহ্যবাহী ও আদিবাসী খেলাধুলাকে সামনে রেখে বিভিন্ন দেশের মধ্যে সম্পর্ক ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের একটি আন্তর্জাতিক মঞ্চ তৈরি করাই এখন এই আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।








