দ্বিতীয়ার্ধে কৌশল বদলেই ২-০ গোলে জয়, মরক্কোর দৌড় থামিয়ে সেমিফাইনালে ফ্রান্স
গত বিশ্বকাপের যেন অ্যাকশন রিপ্লে। গতবারও এই ফ্রান্সের কাছে ২-০ গোলে হেরে শেষ হয়ে গিয়েছিল মরক্কোর স্বপ্নের দৌড়। এবারও সেই ২-০ গোলে হার

গৌতম রায়
গত বিশ্বকাপের যেন অ্যাকশন রিপ্লে। গতবারও এই ফ্রান্সের কাছে ২-০ গোলে হেরে শেষ হয়ে গিয়েছিল মরক্কোর স্বপ্নের দৌড়। এবারও সেই ২-০ গোলে হার। তবে ২০২২-এ ছিল সেমিফাইনালে আর এবার হল কে্ায়ার্টার ফাইনালে। টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় হয়ত নিতে হল তবে এবারও দাগ কেটে গেল বিশ্বের ৬ নম্বর আফ্রিকার দেশটি। টানা ৪৪ ম্যাচ অপরাজিত থাকার পর হার মানল মরক্কো। পেনাল্টি নষ্ট করেই দুরন্ত গোল করলেন এমবাপে। অন্য গোলটি তাঁর দোসর দেম্বেলের।
ফ্রান্স শুরু করেছিল ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে। সামনে এমবাপেকে রেখে তার পিছনে ওলিজে, দেম্বেলে ও দুয়ে। এমবাপে ও দুয়ে চেষ্টা করছিলেন বাঁদিক দিয়ে মরক্কো ডিফেন্সকে স্ট্রেচ করতে। ডানদিক দিয়ে অপারেট করছিলেন ওলিজে। ফরাসি কোচ দেশঁর টার্গেট ছিল মরক্কোর দুই সাইড ব্যাক। তাদের যতটা সম্ভব রক্ষণে ব্যস্ত রাখা যায়। তাতে দুটি ব্যাপার হচ্ছিল। উইং দিয়ে সেভাবে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক তুলে আনতে পারছিলেন না হাকিমিরা। এবং অ্যাটাকিং থার্ডে কিছুটা ফাঁকা জায়গা করে দেওয়ার চেষ্টা ছিল এমবাপের জন্য। এবং মাঝখানে দুই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসাবে রাবিও ও কোনে ছিলেন মরক্কোর খেলা তৈরি বন্ধ করে দেওয়ার জন্য।
তবে দুটো ব্যাপার ঘটছিল। মরক্কো তাদের ডিফেন্স ও মাঝমাঠের মধ্যে কোনও ফাঁকা জমি দিচ্ছিল না। এবং ফ্রান্সের আক্রমণের চতুর্ভুজ টিম গেমের তুলনায় একটু বেশি ব্যক্তিগত নৈপুন্যের ওপর জোর দিচ্ছিলেন। ফলে প্রথমার্ধে গোলের দেখা পেল না লে ব্লুজ।
তারই মধ্যে তিনটি ক্রসে দুটি হেডই বাইরে গেল। দেম্বেলে ও রাবিও এই দুটি ক্ষেত্রে গোলে বল রাখতে পারেননি। আর একবার ৬ গজের মধ্যে থেকে হেডে পাওয়ার দিতে না পারায় বাঁচিয়ে দিলেন মরক্কো গোলরক্ষক ইয়াসির বুনু।
এরপরই পেনাল্টির ঘটনা। আক্রমণে উঠেছিল মরক্কো। কিন্তু হাকিমির পা থেকে বল বেরিয়ে যাওয়ায় দ্রুত প্রতিআক্রমণ তুলে আনে ফ্রান্স। বক্সে এমবাপেকে থামাতে ফাউল করে বসেন নৌসায়ের মাজরাউই। কিন্তু আগের দিনের মেসির মতই পেনাল্টি নষ্ট করে ফেলেন এমবাপে। এক্ষেত্রেও সেভ করে দেন মরক্কো গোলরক্ষক বুনু।
এখানেই শেষ নয়। আরও সুযোগ নষ্ট। একবার বল কেড়ে নিয়ে বক্সে ঢুকে গোলরক্ষকের হাতে মারলেন দুয়ে।
অন্যদিকে মরক্কো রক্ষণাত্মক হয়ে পড়তে বাধ্য হলেও মাঝে মাঝেই ব্রাহিম দিয়াজের কিছু মুভমেন্ট বিপজ্জনক হয়ে উঠছিল, কিন্ত ফ্রান্স রক্ষণে সেভাবে দ্রুত লোক তুলে আনতে না পারায় সে মুভমেন্টগুলো থেকে কাজের কাজ কিছু হচ্ছিল না।
কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ভুল শুধরে নিজেদের কিছুটা বদলে ফেলল ফ্রান্স। ওলিজে ডানদিক থেকে সরে এলেন মাঝখানে। এমবাপের পিছন থেকে বাড়াতে লাগলেন বল। এবং দুয়ে বাঁদিক থেকে ঢুকে এসে সাইড ব্যাককে জায়গা করে দিলেন টাচ লাইন বেশি ব্যবহার করার জন্য। দেওয়া নেওয়া করে বিপজ্জনক মুভমেন্টে আক্রমণকে আরও ধারালো করে তুলল ফ্রান্স। আর এতেই ভেঙে পড়ল মরক্কোর ডিফেন্স।
পরপর দুটি গোল। একটা হাফ চান্স থেকে যেভাবে পিন পয়েন্ট অ্যাকুইরেসিতে গোলে বল রাখলেন, বুঝিয়ে দিলেন কেন তিনি কিলিয়ান এমবাপে। তারপরই সোলো রানে মাঝখান দিয়ে ঢুকে গড়ানে শটে ২-০ করলেন দেম্বেলে। বুনুর হাতে লেগে বল জড়িয়ে গেল জালে।
এরপর আর ম্যাচের কিছু বাকি ছিল না। এমবাপেরও চোট, তাই সেমিফাইনালের জন্য শক্তি মজুদ করতে এমবাপে ও দুয়েকে তুলে নিলেন দেশঁ। এদিন যে মরক্কোর খেলা সেভাবে দানা বাঁধল না। আগের ম্যাচগুলির মত দ্রুত প্রতিআক্রমণে প্রতিপক্ষ রক্ষণে আঘাত করতে পারল না, তার কারণ ফরাসিদের দক্ষতা ও প্রতিভার সঙ্গে তাদের দ্রুত কৌশল বদলে ফেলার ক্ষমতা।
আপাতত ফ্রান্সের মিশন সেমিফাইনাল এবং আপাতত মেসি ৮, এমবাপে ৮ ও হালান্ড ৭। গোল্ডেন বুটের লড়াইটাও দুর্দান্তভাবে জমে গেছে, তাই না!
ছবি সৌজন্য - এক্স
