১৪২ বছরের অপেক্ষার অবসান, লর্ডসে প্রথমবার মহিলাদের টেস্ট ম্যাচ
আবার ক্রিকেটের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখতে চলেছে হোম অফ ক্রিকেট। আগামী শুক্রবার, ১০ জুলাই প্রথমবার মহিলাদের টেস্ট ম্যাচ আয়োজন করবে ক্রিকেটের ঐতিহ্যবাহী লর্ডস। চার দিনের এই ঐতিহাসিক টেস্টে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও ভারতের মহিলা ক্রিকেট দল।

এক্সট্রাটাইম ওয়েব ডেস্ক
আবার ইতিহাসে লর্ডস। আবার ক্রিকেটের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখতে চলেছে হোম অফ ক্রিকেট। আগামী শুক্রবার, ১০ জুলাই প্রথমবার মহিলাদের টেস্ট ম্যাচ আয়োজন করবে ক্রিকেটের ঐতিহ্যবাহী লর্ডস। চার দিনের এই ঐতিহাসিক টেস্টে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও ভারতের মহিলা ক্রিকেট দল। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের পর লর্ডস মাতাবেন আর এক বঙ্গসন্তান – রিচা ঘোষ।
১৮৮৪ সালে প্রথম পুরুষদের টেস্ট ম্যাচ আয়োজন করেছিল লর্ডস। তারপর কেটে গিয়েছে ১৪২ বছর। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এবার একই ঐতিহাসিক মঞ্চে সাদা পোশাকে টেস্ট ক্রিকেট খেলতে নামবেন মহিলারা। ফলে ভারত-ইংল্যান্ডের এই ম্যাচ শুধুমাত্র একটি দ্বিপাক্ষিক টেস্ট নয়, বিশ্ব ক্রিকেটে মহিলাদের দীর্ঘ পথচলারও এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
লর্ডসে মহিলাদের ক্রিকেট অবশ্য একেবারে নতুন নয়। ১৯৭৬ সালের ৪ আগস্ট এই মাঠে প্রথমবার কোনও মহিলাদের আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। একদিনের সেই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ৮ উইকেটে হারিয়েছিল ইংল্যান্ড।
তারপর পেরিয়েছে প্রায় পাঁচ দশক। সেই সময় মহিলাদের ক্রিকেটের বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। আজকের মতো সাদা বা রঙিন ট্রাউজার্স নয়, স্কার্ট পরেই মাঠে নামতেন মহিলা ক্রিকেটাররা। সুযোগ-সুবিধা, স্বীকৃতি এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রেও বর্তমান সময়ের সঙ্গে সেই যুগের ব্যবধান ছিল বিপুল।
১৯৭৬ সালের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক ছিলেন প্রয়াত র্যাচেল হেহো ফ্লিন্ট। মহিলাদের ক্রিকেটের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে তাঁর অবদান আজও স্মরণীয়। ২০১৭ সালে প্রয়াত হওয়া এই কিংবদন্তির নামে বর্তমানে লর্ডসে একটি গেটও রয়েছে।
তবে ১৯৭৬ সালের বাস্তবতা ছিল অন্যরকম। লর্ডসের মালিক মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব বা এমসিসি তখনও মহিলাদের সদস্যপদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে বহু বছর দূরে। প্যাভিলিয়নের ঐতিহ্যবাহী ‘লং রুম’ দিয়ে হেঁটে মহিলা ক্রিকেটাররা মাঠে নামবেন— সেই সময় এমন দৃশ্য প্রায় কল্পনার অতীত ছিল।
আজ সেই লর্ডসেই মহিলাদের টেস্ট ম্যাচ আয়োজন হতে চলেছে। ইতিহাসের বিচারে এই পরিবর্তনের তাৎপর্য তাই অনেক গভীর।
