স্প্যানিশ আক্রমণের ঝড়ে বেসামাল বেলজিয়াম, ২-১ গোলে জিতে সেমিফাইনালে ইয়ামলরা
রীতিমত আক্রমণের ঝড় তুলে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে চলে গেল স্পেন। তারা কত ভাল দল, সেটা বুঝিয়ে দিয়েই বেলজিয়ামকে হারালো ২-১ গোলে।

ছবি সৌজন্য এক্স - ফিফা
রীতিমত আক্রমণের ঝড় তুলে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে চলে গেল স্পেন। তারা কত ভাল দল, সেটা বুঝিয়ে দিয়েই বেলজিয়ামকে হারালো ২-১ গোলে। তেল দেওয়া মেশিনের মত নব্বই মিনিট ধরে দৌড়, দৌড় আর দৌড়। পাস, পাস আর পাস। এই ফুটবলের কোনও জবাব ছিল না বেলজিয়ামের কাছে। তবে একটাই ঘাটতি ছিল। যে প্রবল আক্রমণ হল, তাতে গোলমুখ খুলে ফেলার মত ফাইনাল পাস যদি সেভাবে বেশি বেরিয়ে আসত তাহলে অনেক আগেই খেলার ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যেত। তার জন্যই বেলজিয়াম রক্ষণকে কৃতিত্ব দিতে হবে।
শুরু থেকেই একসঙ্গে সাত আট জনের সাঁড়াশি আক্রমণে বেলজিয়ামকে চেপে ধরেছিল স্প্যানিশরা। প্রান্ত বরাবর উইংগারদের সঙ্গে হু হু করে উঠে আসছিলেন দুই সাইড ব্যাক কুকুরেলা ও পেড্রো পোরো। মাঝমাঠে বেলজিয়ামের আক্রমণ থামানোর জন্য ছিলেন রড্রি ও ফ্যাবিয়ান রুইস। তাঁদের সামনে খেলাটা তৈরি করছিলেন ড্যানি ওলমো। ছে্াট ছোট পাসে বেলজিয়াম রক্ষণে ঝড় তুলে দিলেন তাঁরা। তবে অন্তত প্রথমার্ধে তীক্ষ্ণ ইয়ামলকে থামাতে হিমসিম খাচ্ছিল বেলজিয়ামের রক্ষণ।
এভাবেই গোলটা হল। ডানদিক দিয়ে একটা দৌড় পেড্রো পোরোর। গোল লাইন থেকে দুরন্ত মাইনাস। ওলমোর শট কোনও রকমে বাঁচালেন কুর্তোয়া, কিন্তু ফিরতি বল জালে পাঠিয়ে স্পেনকে এগিয়ে দেন ফ্যাবিয়ান রুইস।
গোল খেয়ে কিছুটা গা ঝাড়া দিয়ে ওঠে বেলজিয়াম। মিনিট দশেকের মধ্যে প্রতিআক্রমণ থেকে গোলও পেয়ে যায়। হেডে গোলটা শোধ করে যান চার্লস ডি কেটেলায়েরে। ৬ ম্যাচ পরে গোল খেল স্পেন।
দ্বিতীয়ার্ধে দুর্ভাগ্যজনকভাবে চোটের জন্য বেরিয়ে যেতে হল কুর্তোয়াকে। চোখ মুছতে মুছতে বেরিয়ে গেলেন বেলজিয়ামের কিংবদন্তি গোলরক্ষক। বুঝতে পারছিলেন বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে হয়ত জীবনে শেষবারের মত বেরিয়ে যাচ্ছেন।
স্প্যানিশ আক্রমণের ঝড় দ্বিতীয়ার্ধেও একই রকম, তবে জয়সূচক গোলটা এল একেবারে শেষ মুহূর্তে। দূরপাল্লার শট নিয়েছিলেন কুবারসি। কিন্তু কুর্তোয়ার পরিবর্তে নামা গোলরক্ষক সেনে লামেনস বল বুকে ধরে রাখতে পারলেন না। বেরিয়ে আসা বল জালে পাঠিয়ে স্পেনকে সেমিফাইনালে তুললেন মেরিনো।
বাইরে বসে অসহায়ের মত লামেনসের ওই ভুলটা দেখলেন কুর্তোয়া। এই ভুলটাই যে বেলজিয়ামের আশা শেষ করে দিল। তিনি মাঠে থাকলে কি এই গোলটা হত?
দ্বিতীয়ার্ধে ওলমো ও ইয়ামলের প্রথমার্ধের সে্ই তীক্ষ্ণতায় কিছুটা ভাটা পড়ল। এছাড়া আর একজনের কথা বলতে হয় - ডোকু। তাঁর দৌড়, স্কিল, লড়াই মাঝে মাঝেই সমস্যায় ফেলে দিচ্ছিল স্প্যানিশদের। কিন্তু এটা যে তাঁদের দিন ছিল না! সেমিফাইনালে ফ্রান্স বনাম স্পেন। ওই দুরন্ত ম্যাচের ফল কী হবে তা কারও পক্ষেই বলা সম্ভব নয়।
