"'বিশ্বকাপ ফিক্সড' নয়, এটা আমাদের বিরুদ্ধে সাজানো বিদ্রোহ" পাল্টা জবাব স্কালোনির
স্কালোনি এই সমালোচনাকে একধরনের পরিকল্পিত প্রতিরোধ বলে বর্ণনা করেছেন, যারা চান না আর্জেন্টিনা পরপর দুইবার বিশ্বকাপ জিতুক তারাই এমন কথা বলছেন বলে তার দাবি।

এক্সট্রা টাইম ওয়েব ডেস্ক: ২০২৬ বিশ্বকাপের শুরু থেকেই বিতর্ক কিছুতে পিছু ছাড়ছেনা লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা দলের। বিতর্কিত রেফারিং সিদ্ধান্ত হোক কিংবা কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ, ফুটবল মহলে ক্রমশ জোরালো হচ্ছে এক জল্পনা!২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে যেন বাড়তি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে যদি ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা শেষ চারে পৌঁছায়, তাহলে তারা এই পুরো টুর্নামেন্টে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দশে থাকা একটিও দলের মুখোমুখি না হয়েই সেমিফাইনালে জায়গা করে নেবে। আর এই বিষয়টিই ফুটবল বিশ্বে ভ্রু কুঁচকানোর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রি কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের পর এই বিতর্ক আরও তীব্র আকার নেয়, যেখানে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও লা আর্জেন্টিনা ৩-২ ব্যবধানে মিশরকে পরাজিত করে। ম্যাচ শেষে মিশর শিবির থেকে অভিযোগ ওঠে যে টুর্নামেন্ট আর্জেন্টিনার পক্ষে "ফিক্সড" করা হয়েছে! আর এই অভিযোগ এখন এক বৃহত্তর বিতর্কে রূপ নিয়েছে, যেখানে প্রশ্ন উঠছে ফিফা কি সূচি এবং মাঠের সিদ্ধান্ত- দুই ক্ষেত্রেই নীরবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের দিকে পাল্লা হেলিয়ে দিচ্ছে?
নীরবতা ভাঙলেন স্কালোনি
শনিবার সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে, আর্জেন্টিনার হেড কোচ লিওনেল স্কালোনি অবশেষে এই তীব্র সমালোচনার জবাব দিলেন। বিষয়টিকে সরাসরি উড়িয়ে না দিয়ে তিনি জানিয়েছেন যে, দলের চারপাশে তৈরি হওয়া এই কোলাহল খেলোয়াড়দের মধ্যেও পৌঁছে গিয়েছে! তবে তার দাবি, বিষয়টিকে তার দল উল্টে নিজেদের পক্ষে কাজে লাগাতে পারবে।
স্কালোনি এই সমালোচনাকে একধরনের পরিকল্পিত প্রতিরোধ বলে বর্ণনা করেছেন, যারা চান না আর্জেন্টিনা পরপর দুইবার বিশ্বকাপ জিতুক তারাই এমন কথা বলছেন বলে তার দাবি।
স্কালোনি বলেন, "ব্যাপারটা হল, ২০২২ বিশ্বকাপ আমরা জিতেছি বলেই হয়তো এবার আরও বেশি মানুষ চাইছে না আমরা জিতি, আর হ্যাঁ, আমরা সেটা মাথায় রাখি। হ্যাঁ, এটা খেলোয়াড়দের মনেও প্রভাব ফেলে। আমরা সমালোচনা বা মন্তব্যগুলোকে বিদ্রোহে রূপান্তরিত করি। একটা বিদ্রোহ তৈরি করি, যাতে খেলোয়াড়রা আরও ভালো খেলতে পারে।"
আর্জেন্টাইন কোচ আরও উল্লেখ করেন যে তার দলের প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ নতুন কিছু নয়! তিনি এই ধারণার বিষয় বলতে গিয়ে চার দশক পেছনে ফিরে যান।
"অনেক দিন হয়ে গেছে, আপনি এইমাত্র বললেন, ৪০ বছর, তাই তো? ১৯৮৬ সাল থেকে। তখনও তারা বলত আমাদের পক্ষপাত করা হচ্ছে। তো এটা নতুন কিছু না। যতদূর আমার মনে পড়ে, আর্জেন্টিনা সবসময়ই এমন একটা দল যারা টুর্নামেন্টে আলোড়ন তোলে, সবসময়। আর একভাবে, আপনি ঠিকই বলেছেন, এটা খেলোয়াড়দের বোঝাতে ব্যবহার হয় যে এমন মানুষও আছে যারা চায় না আর্জেন্টিনা জিতুক। কিন্তু এটাই স্বাভাবিক, ঠিক যেমন অন্য কোনো জাতীয় দলকেও কেউ না কেউ জিততে দেখতে চায় না," সাংবাদিকদের বলেন স্কালোনি।
ভিএআর বিতর্ক নিয়েও মুখ খুললেন
শুধু সূচি নিয়েই বিতর্ক থেমে নেই। মিশরের বিরুদ্ধে ম্যাচে ভিএআর ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, বিশেষত, দ্বিতীয়ার্ধে মিশরের দ্বিতীয় গোলটি বাতিল করা হয়। জানা যায়, যে ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল হয়, তা গোল হওয়ার প্রায় ১০ সেকেন্ডেরও বেশি সময় আগে ঘটেছিল।
এই বিষয়ে প্রশ্নের মুখে পড়ে স্কালোনি ম্যাচ অফিসিয়ালদের পক্ষ নিয়ে বলেন, রেফারিরা কেবল টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই সব দলকে জানানো নিয়ম অনুসরণ করছেন।
"আমার মনে হয় ভিএআর এই সব বিষয়ে, তাদের পক্ষে সাহায্য করাটা খুবই কঠিন। ভিএআর-এ দ্বৈত ব্যাখ্যার কোনো সুযোগ নেই। তার ওপর, বিশ্বকাপ শুরুর আগে যে কোর্সটা তারা আমাদের দিয়েছিল, সেখানে তারা পরিষ্কার করেই বলে দিয়েছিল। তারা আমাদের সব ফুটেজ দেখিয়েছিল। এটা এভাবেই হবে, ওভাবেই হবে বলে জানিয়েছিল। আর সেটাই অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলা হয়েছে," যোগ করেন তিনি।
চারপাশে সমালোচনার ঝড় বাড়তে থাকলেও, আর্জেন্টিনার এখন পুরো মনোযোগ সুইজারল্যান্ডের দিকে। সমালোচকদের চুপ করানোর একমাত্র উপায় খুঁজে নিতে, অর্থাৎ সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য।
