আইপিএলের ব্যবসায়িক মূল্য বেড়ে ২ লাখ কোটি টাকা; আরসিবি, এমআই ও কেকেআর সবচেয়ে মূল্যবান ফ্র্যাঞ্চাইজি
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)-এর আর্থিক শক্তি আরও একবার বিশ্বের সামনে প্রমাণিত হল। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ব্যাঙ্ক Houlihan Lokey-এর প্রকাশিত ২০২৬ আইপিএল ব্র্যান্ড ভ্যালুয়েশন স্টাডি অনুযায়ী, আইপিএলের এন্টারপ্রাইজ ভ্যালু বছরে ১১.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২০.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১,৯৭,০২৪.৬৮ কোটি টাকা)। টানা দ্বিতীয় বছরের মতো আইপিএল দ্বি-অঙ্কের হারে মূল্য বৃদ্ধি ধরে রাখল।
এক্সট্রাটাইম ওয়েব ডেস্ক:
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)-এর আর্থিক শক্তি আরও একবার বিশ্বের সামনে প্রমাণিত হল। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ব্যাঙ্ক Houlihan Lokey-এর প্রকাশিত ২০২৬ আইপিএল ব্র্যান্ড ভ্যালুয়েশন স্টাডি অনুযায়ী, আইপিএলের এন্টারপ্রাইজ ভ্যালু বছরে ১১.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২০.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১,৯৭,০২৪.৬৮ কোটি টাকা)। টানা দ্বিতীয় বছরের মতো আইপিএল দ্বি-অঙ্কের হারে মূল্য বৃদ্ধি ধরে রাখল।
একই সঙ্গে আইপিএলের স্ট্যান্ডঅ্যালোন ব্র্যান্ড ভ্যালু ১০.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৪.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৪১,১০৬ কোটি টাকা)। ২০২৩ সালের পর থেকে এই ব্র্যান্ড ভ্যালু বেড়েছে ১.১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। প্রতি ম্যাচের ব্র্যান্ড মূল্যায়নের বিচারে বিশ্বের ক্রীড়া লিগগুলির মধ্যে শুধুমাত্র এনএফএল-এর পরেই রয়েছে আইপিএল।
রেকর্ড দামে বিক্রি আরসিবি ও রাজস্থান রয়্যালস
২০২৬ সালে আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকানাতেও বড় পরিবর্তন দেখা যায়। Blackstone, Bolt Ventures, Aditya Birla Group এবং Times of India Group-এর নেতৃত্বাধীন একটি কনসোর্টিয়াম রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি)-কে রেকর্ড ১.৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যে অধিগ্রহণ করে।
অন্যদিকে মিত্তল পরিবার এবং আদার পুনাওয়ালা যৌথভাবে রাজস্থান রয়্যালস-এর মালিকানা কিনেছেন ১.৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। এই দুই চুক্তিই প্রমাণ করে যে আইপিএলের বিপুল দর্শকসংখ্যা, স্থায়ী আয়ের উৎস এবং দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক সম্ভাবনার উপর আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা ক্রমশ বাড়ছে।
Houlihan Lokey-এর ফিনান্সিয়াল ও ভ্যালুয়েশন অ্যাডভাইজরি বিভাগের ডিরেক্টর হর্ষ তালিকোটি বলেন,
"২০২৬ সালে ক্রিকেট একটি বৈশ্বিক, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের সম্পদে পরিণত হওয়ার গতি আরও বেড়েছে। আইপিএল বিশ্ব ক্রীড়া অর্থনীতির সংজ্ঞাই বদলে দিচ্ছে। ফ্র্যাঞ্চাইজির মূল্যায়ন নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, বেসরকারি বিনিয়োগ বেড়েছে এবং লিগের বাণিজ্যিক পরিধিও বিস্তৃত হয়েছে।"
ডিজিটাল দর্শক বাড়ছে, কমছে টেলিভিশন ভিউয়ারশিপ
২০২৬ মরশুমে দর্শকসংখ্যার ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন এসেছে। JioStar-এর তথ্য অনুযায়ী, এবারের আইপিএল মোট ১.০৬ বিলিয়ন স্ক্রিনে পৌঁছেছে। দর্শকসংখ্যা গত বছরের তুলনায় ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রথম সপ্তাহান্তেই ৫১৫ মিলিয়ন মানুষ আইপিএল দেখেছেন এবং তৈরি হয়েছে ৩২.৬ বিলিয়ন মিনিট ওয়াচ-টাইম।
সবচেয়ে বড় উত্থান হয়েছে Connected TV (CTV)-তে, যেখানে দর্শকসংখ্যা বেড়েছে ২৬ শতাংশ। অন্যদিকে, প্রচলিত টেলিভিশনের রেটিং কমেছে ১৮.৮ শতাংশ। লিগের মোট আয় ১.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এখন আইপিএলের আয়ের প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে। এরই অংশ হিসেবে Google Gemini-র সঙ্গে তিন বছরের একটি প্রিমিয়াম অংশীদারিত্বও হয়েছে।
সবচেয়ে মূল্যবান আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি
১. রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB) – ৩১২ মিলিয়ন ডলার (+১৬%)
আরসিবি টানা দ্বিতীয় বছরের মতো আইপিএলের সবচেয়ে মূল্যবান ফ্র্যাঞ্চাইজি। তাদের ব্র্যান্ড ভ্যালু ২৬৯ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৩১২ মিলিয়ন ডলার। আইপিএলের ইতিহাসে প্রথম ক্রিকেট ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে ৩০০ মিলিয়ন ডলারের ব্র্যান্ড ভ্যালু অতিক্রম করল আরসিবি। টানা দুইবার আইপিএল জেতা এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় বিপুল জনপ্রিয়তাই এই সাফল্যের মূল কারণ।
২. মুম্বই ইন্ডিয়ান্স – ২৬৪ মিলিয়ন ডলার (+৯.১%)
সাম্প্রতিক সময়ে মাঠে সাফল্য না পেলেও মুম্বই ইন্ডিয়ান্স দ্বিতীয় স্থান ধরে রেখেছে। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন দলটির শক্তিশালী ব্র্যান্ড, কর্পোরেট সমর্থন এবং দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব তাদের মূল্য ধরে রেখেছে।
৩. কলকাতা নাইট রাইডার্স – ২৪৫ মিলিয়ন ডলার (+৭.৯%)
কেকেআর-এর ব্র্যান্ড ভ্যালু বেড়ে হয়েছে ২৪৫ মিলিয়ন ডলার। ২০২৪ সালের আইপিএল শিরোপা জয়ের প্রভাব, শক্তিশালী ডিজিটাল উপস্থিতি এবং বিনোদন-কেন্দ্রিক ব্র্যান্ড ইমেজ এখনও দলটির বাণিজ্যিক মূল্য বাড়িয়ে চলেছে।
৪. চেন্নাই সুপার কিংস – ২৪৪ মিলিয়ন ডলার (+৩.৮%)
চতুর্থ স্থানে রয়েছে চেন্নাই সুপার কিংস। টানা দ্বিতীয়বার হতাশাজনক মরশুম এবং মহেন্দ্র সিং ধোনির মাঠে কম ভূমিকার কারণে তাদের বাণিজ্যিক গতি কিছুটা কমেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে ব্র্যান্ড ভ্যালু ধরে রাখতে প্রজন্ম পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
৫. সানরাইজার্স হায়দরাবাদ – ১৬৮ মিলিয়ন ডলার (+৯.১%)
একাধিকবার প্লে-অফে ওঠা এবং বাণিজ্যিক সাফল্যের জেরে পঞ্চম স্থানে রয়েছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ।
৬. রাজস্থান রয়্যালস – ১৬১ মিলিয়ন ডলার (+১০.৩%)
প্লে-অফে জায়গা করে নেওয়া, কিশোর প্রতিভা বৈভব সূর্যবংশীর উত্থান এবং নতুন মালিকানার কারণে রাজস্থান রয়্যালস-এর ব্র্যান্ড ভ্যালুও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
৭. পাঞ্জাব কিংস – ১৫৮ মিলিয়ন ডলার (+১২.১%)
প্লে-অফে অল্পের জন্য জায়গা না পেলেও বাণিজ্যিকভাবে ধারাবাহিক উন্নতি করেছে পাঞ্জাব কিংস।
৮. গুজরাট টাইটান্স – ১৫৭ মিলিয়ন ডলার (+১০.৬%)
মাত্র পাঁচ মরশুমে তৃতীয়বার আইপিএল ফাইনালে ওঠা গুজরাট টাইটান্স নিজেদের অন্যতম দ্রুত-বর্ধনশীল ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।
৯. দিল্লি ক্যাপিটালস – ১৫৬ মিলিয়ন ডলার (+২.৬%)
শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত প্লে-অফের দৌড়ে থাকা দিল্লি ক্যাপিটালস নবম স্থানে রয়েছে।
১০. লখনউ সুপার জায়ান্টস – ১২২ মিলিয়ন ডলার (অপরিবর্তিত)
সবশেষে রয়েছে লখনউ সুপার জায়ান্টস। হতাশাজনক মরশুমের পর অধিনায়ক ঋষভ পন্থ দায়িত্ব ছাড়েন। ফলে দলটির ব্র্যান্ড ভ্যালু ১২২ মিলিয়ন ডলারতেই স্থির রয়েছে।
আইপিএলের এই রিপোর্ট আরও একবার স্পষ্ট করে দিল, এটি শুধু বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় টি-২০ ক্রিকেট লিগই নয়, বরং বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ক্রীড়া-বাণিজ্যিক ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে। ডিজিটাল সম্প্রচার, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ এবং ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক দর্শকসংখ্যার জোরে আগামী বছরগুলিতে আইপিএলের আর্থিক মূল্য আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনাই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
