মন পড়ে কলকাতায়, ছটপট করছেন তরুণ ফুটবলার তনবীর দে
আইএসএলে খেলা এক ফুটবলার, ভারতীয় দলে সুযোগ পাওয়া সেই বাঙালি ফুটবলারের বুকে কেন এত হাহুতাশ, এত অতৃপ্তি, এত অসম্পূর্ণতা, তার খোঁজ কে রাখে! তনবীর দে – নদীয়ার ছেলে।
আইএসএলে খেলা এক ফুটবলার, ভারতীয় দলে সুযোগ পাওয়া সেই বাঙালি ফুটবলারের বুকে কেন এত হাহুতাশ, এত অতৃপ্তি, এত অসম্পূর্ণতা, তার খোঁজ কে রাখে! তনবীর দে – নদীয়ার ছেলে। প্রতিভাবান এই ফুটবলারের কাছে একসঙ্গে আটটি ক্লাবের জুনিয়র দলে খেলার প্রস্তাব ছিল। তার মধ্যে মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল, মহমেডানও ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নর্থ ইস্টে খেলার সিদ্ধান্তই নেন তনবীর। নর্থ ইস্টের হয়ে আরএফডিএলে ১৮টি গোল করে জেতেন গোল্ডেন বুট। তারপরই অনূর্ধ্ব ২০ ভারতীয় দলে সুযোগ। তবু তনবীরের মন পড়ে বাংলায়। মন পড়ে মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলে। যুবভারতীতে।
প্রশ্ন তো ওঠেই, তাহলে সুযোগ পেয়েও কেন ইস্টবেঙ্গল বা মোহনবাগানের প্রস্তাব তিনি গ্রহণ করেননি? আসলে বয়সের তুলনায় অনেকটাই পরিণত ১৮ বছরের তনবীর। জানালেন, মাঠের বাইরে বসে থাকতে চান না। তাই ছোট দল থেকে উঠে এসে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান। তারপর মোহনবাগান বা ইস্টবেঙ্গল – এই স্বপ্নকে বুকে নিয়েই এগোচ্ছেন।
তবে শূন্যতা তো আছেই। তনবীরের নিজের কথায়, “সব বাঙালি ছেলেরই স্বপ্ন থাকে ইস্টবেঙ্গল বা মোহনবাগানে খেলার। এই বাংলার মাটি আমার প্রাণ। মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল আমার স্বপ্ন। স্বপ্নের যুবভারতী। সেখানে থাকতে না পারার জন্য একটা হাহুতাশ, একটা অতৃপ্তি তো থাকবেই! যখন ইস্টবেঙ্গল বা মোহনবাগানের বিরুদ্ধে খেলি, খেলার সময় প্রতিপক্ষ ভাবলেও পরে মনে হয় নিজের মাটির বিরুদ্ধে খেললাম।“ মোহনবাগান বা ইস্টবেঙ্গলের জার্সি পরে ভরা যুবভারতীতে গোল করার স্বপ্নে বুঁদ তনবীর।
এই আবেগটা চলে গেছে মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলের দলের ভিতর থেকে। বাঙালি ছেলে যে দলে প্রায় নেই। অথচ এই আবেগটাই ছিল প্রাণ। ভালো খেলার কাঠামো। এখনও বাঙালি প্রতিভা আছে। তাঁদের মধ্যে আগের সেই আবেগটাও এখনও আছে। মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলকে নিয়ে তনবীরের আবেগ দেখে বাঙালি ফুটবলারদের নিয়ে আমাদের দুই প্রধানের কর্মকর্তাদের সার্বিক ভাবনা যদি একটু বদলায়, তাতে লাভ বাংলার ফুটবলেরই।
