রীতিমত একপেশে ফাইনাল, মেসির আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন
এমন একপেশে ফাইনাল আগে কখনও হয়নি। এখন টু স্টার স্পেন। ২০১০-এর পর আবার বিশ্বসেরা। জয়সূচক গোলটি করে স্পেনকে চ্যাম্পিয়ন করলেন ফেরান টোরেস।

ছবি সৌজন্য - এক্স - ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ
গৌতম রায়
ইউরোপ সেরাদের বিশ্বজয়। পারলেন না লিও মেসি। আর্জেন্টিনাকে রীতিমত পর্যুদস্ত করে ১-০ গোলে ম্যাচ জিতল স্পেন। একাধিক সুযোগ নষ্ট না হলে এবং আর্জেন্টিনার গোলে এমিলিয়ানো মার্টিনেজ না থাকলে একাধিক গোলেই জেতার কথা স্পেনের। এমন একপেশে ফাইনাল আগে কখনও হয়নি। এখন টু স্টার স্পেন। ২০১০-এর পর আবার বিশ্বসেরা। জয়সূচক গোলটি করে স্পেনকে চ্যাম্পিয়ন করলেন ফেরান টোরেস।
৯০ মিনিটের শেষ প্রান্তে এসে লাল কার্ড দেখলেন এনজো ফার্নান্ডেজ। তার ফলে ১০ জনের আর্জেন্টিনাকে আরও চেপে ধরে স্পেন।
গোটা প্রথমার্ধ হিসেবি, ট্যাকটিক্যাল গেম। তারই মধ্যে প্রাধান্য রাখল স্পেন। মেসিকে আটকাতে এদিন অবশ্য সেমিফাইনালের মত হাই প্রেসিং নয়, স্প্যানিশ রক্ষণ ও মাঝমাঠের লক্ষ্য ছিল, ডিফেন্সিভ থার্ডে যেন প্রতিপক্ষ পাসিংয়ের জায়গা না পায়। সেখানে আর্জেন্টিনীয়রা যাতে কোনও রকম জায়গা না পায়। এই কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন রড্রি আর কুবরাসি। আর এর ফলেই কিছুটা হতাশ হয়েই বলের জন্য মেসিকে অনেক নিচে নেমে আসতে হচ্ছিল। স্পেন তো ঠিক এটাই চাইছিল!
রড্রিকে হোল্ডিং মিডফিল্ডার হিসাবে রেখে খেলা তৈরির মূল দায়িত্বটা তুলে নিয়েছিলেন ওলমো ও ফ্যাবিয়ান রুইজ। দুই উইং ধরে বায়েনা ও ইয়ামলের সঙ্গে কুকুরেয়ারা ক্রমাগত চাপ তৈরি করে গেলেন যাতে মাঝখানে ওলমোরা বেশি ফাঁকা জায়গা পান।
উল্টোদিকে অন্তত গোল খাওয়ার আগে পর্যন্ত আর্জেন্টিনা বলের দখলের দিকে নজর না দিয়ে নিজেদের রক্ষণ ও মাঝমাঠের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে এনে সেখানে স্পেনকে থামানোর চেষ্টা করে গেছে। হয়ত ইংল্যান্ড ম্যাচের কথা মাথায় রেখে মনে হল তারা প্রথমার্ধে শক্তি জমিয়ে রাখার দিকে নজর দিয়েছিল। হয়ত চেয়েছিল, সেমিফাইনালের মত শেষ দিকে প্রতিপক্ষ ক্লান্ত হয়ে গেলে তখন ঝড় তুলে ম্যাচ বার করে নেওয়ার চেষ্টা করবে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনা সেই হাত পা চালিয়ে রাফ টাফ ফুটবলটা খেলতে লাগল, যেটা তারা ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথমার্ধে করেছিল। কিন্তু ইংল্যান্ড আর স্পেন এক নয়। তাই ওভাবে দমানো যায়নি স্প্যানিশদের। এছাড়া এদিন রেফারিও অনেক কড়া হাতে এই ফুটবলকে সামলেছেন। সে কারণেই লাল কার্ড দেখতে হল এনজো ফার্নান্ডেজকে।
দ্বিতীয়ার্ধে বরং আরও বেশি আক্রমণে তেজ বাড়ায় স্পেন। বলা যায় আর্জেন্টিনার বুকের ওপর চেপে বসেছিল গোটা স্পেন দলটা। এই সময় ইয়ামলের সেন্টারে টোরেসের হেড সরাসরি চলে গেল এমি মার্টিনেজের হাতে। যেমন একের পর এক সুযোগ নষ্ট স্পেনের, তেমনি এমিলিয়ানো মার্টিনেজ বেশ কয়েকবার সামাল দিলেন আর্জেন্টিনার নিশ্চিত পতন। এভাবেই নির্ধারিত সময় শেষ। ম্যাচ চলে গেল অতিরিক্ত সময়ে।
তখনও একই ছবি। মিকেল মেরিনোর হেড গোলে ঢুকল না। শেষ পর্যন্ত এল সেই কাঙ্খিত মুহূর্ত। ডানদিক থেকে আসা ক্রস নিকো উইলিয়ামস মাথা দিয়ে নামিয়ে দিল্ নিখুঁত শটে ম্যাচের একমাত্র গোলটি করে নায়ক হয়ে যান ফেরান টোরেস।
এরপরই যেন সম্বিত ফিরল আর্জেন্টিনার। বুঝল যেভাবে খেলছিল, সেভাবে ইংল্যান্ডকে থামিয়ে দেওয়া যায়, কিন্তু বিশ্বসেরা স্পেনকে শেষ পর্যন্ত থামানো যায় না। আর্জেন্টিনা মরিয়া হয়ে শেষ ১৫ মিনিট ঝাঁপাল। মেসি একের পর এক বল বাড়াতে থাকলেন, কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। স্কালোনি হয়ত বুঝলেন, দিনের শেষে ইংল্যান্ডকে যেভাবে হারানো গিয়েছিল, স্পেনকে সেভাবে কেন হারানো গেল না। আসলে বিশ্বসেরা দলকে ওভাবে যে থামানো যায় না! অন্তত খেলা দেখে মনে হল ম্যাচের আগেই হেরে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা, নাহলে তাদের এমন ফুটবল হয় না। এমন একপেশে ম্যাচও হয় না। আর সে কারণেই ইউরোপ চ্যাম্পিয়নদের বিশ্বসেরা হওয়া আটকাতে পারলেন না আর্জেন্টাইন যুবরাজও।
