ঐতিহাসিক পারফরম্যান্স ব্লু টাইগার্সের, ৯৪ ধাপ এগিয়ে থাকা পানামার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করল ভারত
পানামাকে চমকে দিল ভারত। যে দলটা এই বছরই ফিফা বিশ্বকাপে খেলে এসেছে, ফিফা ক্রমতালিকায় যারা ভারতের চেয়ে ৯৪ ধাপ এগিয়ে আছে, এক সময় যারা বিশ্বের ২৯ নম্বরও ছিল, তাদের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়া, শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলে ম্যাচ অমীমাংসিত রাখা দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। খালিদ জামিলের কোচিংয়ে নিঃসন্দেহে এটাই সেরা পারফরম্যান্স।

এক্সট্রাটাইম ওয়েব ডেস্ক
পানামাকে চমকে দিল ভারত। যে দলটা এই বছরই ফিফা বিশ্বকাপে খেলে এসেছে, ফিফা ক্রমতালিকায় যারা ভারতের চেয়ে ৯৪ ধাপ এগিয়ে আছে, এক সময় যারা বিশ্বের ২৯ নম্বরও ছিল, তাদের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়া, শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলে ম্যাচ অমীমাংসিত রাখা দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। খালিদ জামিলের কোচিংয়ে নিঃসন্দেহে এটাই সেরা পারফরম্যান্স।
যাঁরা এবারের বিশ্বকাপে খেলেছেন, সে রকম ১৪ জন ফুটবলারকে এনেছে পানামা, তবে হ্যাঁ, খুব স্বাভাবিকভাবেই ভারতের বিরুদ্ধে তাঁদের বেশিরভাগকেই নামানো হয়নি, তবু এ কথা তো মাথায় রাখতে হবে, ভারতের র্যাঙ্কিং যেখানে ১৩৮ সেখানে পানামার র্যাঙ্কিং ৪৪। বিশাল তফাৎ, কিন্তু পারফরম্যান্সে তেমন তফাৎ হতে দিলেন না আনোয়ার, রায়ান উইলিয়ামসরা। সমানে সমানে লড়াই করে হার মানলেন না।
এদিন ভারতের রক্ষণ ছিল অসাধারণ। যেমন অরগানাইজড, তেমন ট্রানজিশন। আনোয়ার, বিজয়, অভি মিতাই, আকাশ মিশ্ররা গোটা ম্যাচেই প্রায় দুর্ভেদ্য।
বাঁদিকে অসাধারণ খেললেন আকাশ মিশ্রা ও আসিক কুরুনিয়ান। এবং রায়ান উইলিয়ামস। উঠে নেমে প্রচুর পরিশ্রম করলেন। প্রথমার্ধের শেষ দিকে ভারত এগিয়েও গেল আকাশ – রায়ানের যুগলবন্দিতে। লম্বা বল পেয়ে নিখুঁত প্লেসিংয়ে ১-০ করেন রায়ান উইলিয়ামস। গোলের আগেও একটি সিটার পেয়েছিলেন তিনি, কিন্তু ঠিকমত শট নিতে পারলেন না।
গোটা ভারতীয় দলের এমন উজ্জীবিত পারফরম্যান্স দেখে হয়ত থমকে গিয়েছিল পানামা। যেমন জমাট রক্ষণ, তেমনই প্রতি আক্রমণে কামড় দিয়ে যাচ্ছিলেন না রায়ান, মনবীর, বিক্রমপ্রতাপরা।
তবে পিছিয়ে পড়ে দ্বিতীযার্ধে খোলস ছেড়ে বেরলো পানামা। বাড়াল ঝাঁঝ, গতি। ক্রমাগত আক্রমণ করে গেল পরের অর্ধে। তবে একবারের বেশি হার মানানো গেল না ভারতীয় রক্ষণকে। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে দুরন্ত শটে ম্যাচে সমতা ফেরালেন ওমর ভ্যালেন্সিয়া। তবে এই গোলের সময় কি গুরপ্রীতের কিছুই করার ছিল না? প্রশ্নটা অবশ্য রয়েই গেল।
দ্বিতীয়ার্ধে পানামার প্রাধান্যের মাঝেও দুবার সহজ সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলে এডমুন্ড ও মনবীর। গোল করতে পারলে ভারতীয় ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা জয় হয়েই থেকে যেত।
তবু এমন লড়াই, এমন ফুটবল, এমন হার না মানমা৩ মানসিকতা আগামি দু সপ্তাহ ধরে রাখা খুব জরুরি। এবার যে সামনে আরও অনেক কঠিন প্রতিপক্ষ ব্রাজিল ও উরুগুয়ে। হার জিত বড় কথা নয়, অন্তত নিজেদের ফুটবলটাকে তো এমনই লড়াকু, প্রশংসনীয় জায়গায় তুলে নিয়ে গিয়ে আনসেলোত্তিকে বার্তা দেওয়া জরুরি যে, না আপনি যে বলেছেন ভারতের ফুটবল কালচার নেই, সেটা বোধহয় ঠিক নয়। বিশ্বের অন্যতম সেরা বিদগ্ধ কোচকে ভুল প্রমাণ করতে পারলে তিনিও বোধহয় খুশিই হবেন।
