বদলে দিতে পারে জীবন, শুটার মেঘনার লড়াইয়ে নতুন অধ্যায় আয়ুষ্মানের হাত ধরে
প্রতিভার অভাব ছিল না। পরিশ্রমেও খামতি রাখেননি। কিন্তু আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের সেরাটা দেওয়ার পথে ভারতীয় শুটার মেঘনা সজ্জনার সামনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল এমন একটি বিষয়, যা খেলাধুলার বাইরের সঠিক সরঞ্জামের অভাব। আর সেই সমস্যার কথাই একদিন বদলে দিল তাঁর কেরিয়ারের গতিপথ।

এক্সট্রাটাইম ওয়েবডেস্ক: প্রতিভার অভাব ছিল না। পরিশ্রমেও খামতি রাখেননি। কিন্তু আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের সেরাটা দেওয়ার পথে ভারতীয় শুটার মেঘনা সজ্জনার সামনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল এমন একটি বিষয়, যা খেলাধুলার বাইরের সঠিক সরঞ্জামের অভাব। আর সেই সমস্যার কথাই একদিন বদলে দিল তাঁর কেরিয়ারের গতিপথ।
বেঙ্গালুরুর এই রাইফেল শুটার বিশ্বমানের সরঞ্জাম নিয়ে অনুশীলন করতে চাইলেও আর্থিক সমস্যার কারণে তা সম্ভব হচ্ছিল না। তাঁর এই লড়াই নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সেই প্রতিবেদনই নজরে আসে অভিনেতা আয়ুষ্মান খুরানার। মেঘনাকে ব্যক্তিগতভাবে না চিনলেও তাঁর পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। নিজের উদ্যোগে মেঘনার জন্য একটি অত্যাধুনিক রাইফেলের ব্যবস্থা করেন।
মেঘনার কাছে সেই সাহায্য ছিল শুধু একটি রাইফেল পাওয়া নয়। তাঁর কথায়, নতুন সরঞ্জাম তাঁকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ময়দানে সমান জায়গায় দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিয়েছিল। প্রস্তুতিতে আর কোনও আপস করতে হয়নি, বরং বিশ্বের সেরাদের সঙ্গে লড়াইয়ের আত্মবিশ্বাস আরও বেড়েছিল।
তারপরই এল ফল। ২০২৬ সালের দিল্লির কর্ণী সিং শুটিং কেন্দ্রে এশিয়ান শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে দলগত সোনা এবং ব্যক্তিগত ব্রোঞ্জ জেতেন মেঘনা। আরও উল্লেখযোগ্য বিষয়, সেই সাফল্য এসেছিল তাঁর আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায়।
এরপর কন্যাসন্তানের জন্ম দেন মেঘনা। জুনে ফের কঠোর অনুশীলনে ফিরেছেন তিনি। এবার তাঁর লক্ষ্য কায়রোয় আসন্ন বিশ্বকাপ।
মেঘনার গল্প তাই শুধু পদক জয়ের নয়। একজন ক্রীড়াবিদের প্রতিভা ও পরিশ্রমের পাশাপাশি সঠিক সুযোগ কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তাঁর যাত্রা সেটিই দেখায়। আর কখনও কখনও একটি সংবাদ প্রতিবেদনই সেই সুযোগের দরজা খুলে দিতে পারে।








