র্যাকেট হাতে বদলে গেল ভাগ্য, এশিয়ান গেমসে ইতিহাস জয় মীণার: সফট টেনিসে ভারতের প্রথম পদকজয়ী
একসময় স্বপ্ন ছিল ক্রিকেটার হওয়ার। অথচ সেই স্বপ্নের পথ বদলে গিয়ে আজ ভারতীয় ক্রীড়ার ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের নাম জয় মীণা। ২০২৬ এশিয়ান গেমসে পুরুষদের একক সফট টেনিসে ব্রোঞ্জ জিতে ভারতের প্রথম সফট টেনিস পদকজয়ী হয়ে উঠলেন মধ্যপ্রদেশের এই খেলোয়াড়।

এক্সট্রাটাইম ওয়েবডেস্ক: একসময় স্বপ্ন ছিল ক্রিকেটার হওয়ার। অথচ সেই স্বপ্নের পথ বদলে গিয়ে আজ ভারতীয় ক্রীড়ার ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের নাম জয় মীণা। ২০২৬ এশিয়ান গেমসে পুরুষদের একক সফট টেনিসে ব্রোঞ্জ জিতে ভারতের প্রথম সফট টেনিস পদকজয়ী হয়ে উঠলেন মধ্যপ্রদেশের এই খেলোয়াড়।
নাগোয়ায় পাওয়া এই পদক অবশ্য হঠাৎ করে আসেনি। এর পিছনে রয়েছে বছরের পর বছর ধরে তৈরি করা এক ধারাবাহিক সাফল্যের গল্প।
দেওয়াসের পাইওনিয়ার পাবলিক স্কুলে পড়ার সময় সফট টেনিসের সঙ্গে পরিচয় জয় মীণার। শুরুটা হয়েছিল একেবারেই অন্যভাবে খেলোয়াড় হিসেবে নয়, বল কুড়িয়ে দেওয়ার কাজ করতেন তিনি। পরে হাতে তুলে নেন র্যাকেট। সেখান থেকেই বদলে যায় তাঁর জীবনের গতিপথ।
২০২২ সালের জাতীয় গেমসে পুরুষদের এককে সোনা জিতে নিজের সামর্থ্যের জানান দেন জয়। এরপর ২০২৪ সালের বিশ্ব সফট টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপে আধ্যা তিওয়ারির সঙ্গে মিশ্র দ্বৈতে ব্রোঞ্জ জিতে আরও বড় ইতিহাস গড়েন তিনি। সেটিই ছিল এই প্রতিযোগিতায় ভারতের প্রথম পদক।
এরপর ২০২৫ সালে এশিয়ান সফট টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপেও এককে ব্রোঞ্জ জিতে প্রথম ভারতীয় হিসেবে নজির গড়েন জয়। একই প্রতিযোগিতায় আধ্যার সঙ্গে মিশ্র দ্বৈতেও ব্রোঞ্জ আসে তাঁর ঝুলিতে। সেই বছর জাতীয় এককের খেতাবও জেতেন তিনি।
নাগোয়ায় এসে তাই প্রত্যাশার চাপও ছিল। কোয়ার্টার ফাইনালে ফিলিপিন্সের শেরউইন নগুইটকে ৪-৩ ফলে হারিয়ে ভারতের জন্য নিশ্চিত করেন সফট টেনিসে প্রথম এশিয়ান গেমস পদক। সেমিফাইনালে জাপানের তাকুয়া কুরোসাকার কাছে ২-৪ ব্যবধানে হারলেও ততক্ষণে ইতিহাস লেখা হয়ে গিয়েছে ব্রোঞ্জ নিশ্চিত জয় মীণার।
এটি তাঁর তৃতীয় এশিয়ান গেমস। এর আগে ২০১৮ সালের জাকার্তা এবং ২০২২ সালের হাংঝৌ আসরেও ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি।
ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন থেকে স্কুলে বল কুড়িয়ে দেওয়া, সেখান থেকে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়া এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে একের পর এক পদক জয়, জয় মীণার সেই যাত্রা এবার পৌঁছে গেল এশিয়ান গেমসের মঞ্চে। আর সেখানেই তিনি শুধু পদক জিতলেন না, ভারতীয় সফট টেনিসের ইতিহাসেও নিজের নাম লিখে ফেললেন।








